Dhaka ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সম্পত্তি ভাগাভাগি: ৩০ ঘণ্টা পর কুড়িগ্রামের সেই বাবার লাশ দাফন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ Time View
12 / 100 SEO Score

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের কারণে বাবার লাশ আটকে রাখা হয়েছিল প্রায় ৩০ ঘণ্টা। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি ঘটেছে নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজার রহমান (৭৫) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যের কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তবে সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে হাকিম সম্পত্তির সমবণ্টন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে দাফনে আপত্তি তোলেন। এ ঘটনায় জানাজা স্থগিত হয়ে যায়। মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির আঙিনায় খাটিয়ায় রাখা ছিল।

দিনভর স্থানীয় মুরব্বি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অবশেষে রাত ১০টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই ৮ শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের প্রাপ্য হিসাবে থাকবে। পাশাপাশি আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করা হয় এবং এতে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করে। সমঝোতার পর রাত ১১টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ঘটনাটি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দাফনে বিলম্বের ঘটনায় দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, জমিসংক্রান্ত বিষয় পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যেত। জন্মদাতা বাবার মরদেহ ৩০ ঘণ্টা ফেলে রেখে দাফনে দেরি করা অমানবিক।

মৃত ব্যক্তির সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লা হিল জামান বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পত্তি ভাগাভাগি: ৩০ ঘণ্টা পর কুড়িগ্রামের সেই বাবার লাশ দাফন

Update Time : ০৬:৪৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের কারণে বাবার লাশ আটকে রাখা হয়েছিল প্রায় ৩০ ঘণ্টা। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি ঘটেছে নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজার রহমান (৭৫) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যের কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তবে সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে হাকিম সম্পত্তির সমবণ্টন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে দাফনে আপত্তি তোলেন। এ ঘটনায় জানাজা স্থগিত হয়ে যায়। মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির আঙিনায় খাটিয়ায় রাখা ছিল।

দিনভর স্থানীয় মুরব্বি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অবশেষে রাত ১০টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই ৮ শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের প্রাপ্য হিসাবে থাকবে। পাশাপাশি আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করা হয় এবং এতে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করে। সমঝোতার পর রাত ১১টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ঘটনাটি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দাফনে বিলম্বের ঘটনায় দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, জমিসংক্রান্ত বিষয় পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যেত। জন্মদাতা বাবার মরদেহ ৩০ ঘণ্টা ফেলে রেখে দাফনে দেরি করা অমানবিক।

মৃত ব্যক্তির সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লা হিল জামান বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তাঁর জানা নেই।