Dhaka ০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার আশ্বাস সিইসির

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১ Time View
12 / 100 SEO Score

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া হবে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের জন্য পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ এবং সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালায় সংশোধন এনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা জোরদার করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, দেশব্যাপী কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭ লাখ নারী। এতে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে জাতিসংঘসহ উন্নয়ন অংশীদাররা সহযোগিতা করেছে।

প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত সময় সত্ত্বেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যা উৎসাহব্যঞ্জক। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে নির্ধারিত শ্রেণির ভোটারদের জন্যও ডাক ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালট ফেরত এসেছে।

সিইসি জানান, নির্বাচন দিবস উপলক্ষে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই শেষে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনী সামগ্রী সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক বিতরণ চলছে। পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।

ভোটারদের সুবিধার্থে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা পরিচালনা করবেন। ভোট শেষে কেন্দ্রেই গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে, পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন।

লিঙ্গ, বয়স বা পটভূমি নির্বিশেষে সব ভোটারকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, যথাযথ পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো বিরোধ আইন ও সংবিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্যাপক দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি, প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, যার মধ্যে প্রায় ২২০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এবং ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিককে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সব স্বীকৃতি যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’

নির্বাচন সামনে রেখে তিনি কমিশনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সিইসি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের পেশাদারত্বের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের প্রতিবেদন গণতান্ত্রিক আস্থা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার আশ্বাস সিইসির

Update Time : ০৬:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া হবে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের জন্য পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ এবং সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালায় সংশোধন এনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা জোরদার করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, দেশব্যাপী কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭ লাখ নারী। এতে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে জাতিসংঘসহ উন্নয়ন অংশীদাররা সহযোগিতা করেছে।

প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত সময় সত্ত্বেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যা উৎসাহব্যঞ্জক। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে নির্ধারিত শ্রেণির ভোটারদের জন্যও ডাক ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালট ফেরত এসেছে।

সিইসি জানান, নির্বাচন দিবস উপলক্ষে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই শেষে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনী সামগ্রী সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক বিতরণ চলছে। পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।

ভোটারদের সুবিধার্থে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা পরিচালনা করবেন। ভোট শেষে কেন্দ্রেই গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে, পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন।

লিঙ্গ, বয়স বা পটভূমি নির্বিশেষে সব ভোটারকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, যথাযথ পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো বিরোধ আইন ও সংবিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্যাপক দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি, প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, যার মধ্যে প্রায় ২২০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এবং ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিককে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সব স্বীকৃতি যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’

নির্বাচন সামনে রেখে তিনি কমিশনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সিইসি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের পেশাদারত্বের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের প্রতিবেদন গণতান্ত্রিক আস্থা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।